বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
রাশিয়ার বাল্টিক সাগর উপকূলবর্তী প্রিমোরস্ক বন্দর এবং মধ্যাঞ্চলের নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলে অবস্থিত নরসি তেল শোধনাগারে ভয়াবহ ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইউক্রেনের ড্রোন বাহিনীর কমান্ডার রবার্ট ব্রোভদি এ হামলার দায় স্বীকার করেছেন। এর আগে রোববার (৫ এপ্রিল) রাশিয়ার কর্মকর্তারা প্রথম হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
রাশিয়ার উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেকজান্ডার দ্রোজদেঙ্কো জানান, প্রিমোরস্ক বন্দরে একটি গুরুত্বপূর্ণ পাইপলাইনে ক্ষতি হয়েছে। পরবর্তীতে তিনি টেলিগ্রামে এক বার্তায় বলেন, বন্দর এলাকার একটি জ্বালানি সংরক্ষণ ট্যাংকে শার্পনেলের আঘাতে ফাটল সৃষ্টি হয়, ফলে তেল ছড়িয়ে পড়ে।
অন্যদিকে, নিঝনি নভগোরোদ অঞ্চলের গভর্নর গ্লেব নিকিতিন জানান, নরসি তেল শোধনাগারের দুটি ইউনিটে হামলার ফলে আগুন ধরে যায়। তিনি বলেন, এ ঘটনায় একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং আশপাশের কয়েকটি আবাসিক ভবনও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে প্রাথমিকভাবে কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।
উল্লেখ্য, ফিনল্যান্ড সীমান্ত ও সেন্ট পিটার্সবার্গের মধ্যবর্তী এলাকায় অবস্থিত প্রিমোরস্ক বন্দরটি রাশিয়ার অন্যতম প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র। এর আগে গত মার্চ মাসেও এখানে হামলার ঘটনা ঘটে, যেখানে একটি তেল ডিপোতে আগুন লেগেছিল। রাশিয়ার রাষ্ট্রায়ত্ত তেল পরিবহন কোম্পানি ট্রান্সনেফট এই বন্দর ব্যবহার করে আন্তর্জাতিক বাজারে তেল রপ্তানি করে।
অন্যদিকে, নরসি তেল শোধনাগারটি রাশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম পেট্রোল উৎপাদনকারী স্থাপনা হিসেবে পরিচিত। প্রতি বছর প্রায় ১ কোটি ৬০ লাখ মেট্রিক টন তেল প্রক্রিয়াজাত করার সক্ষমতা রয়েছে এর, যা দৈনিক প্রায় ৩ লাখ ২০ হাজার ব্যারেলের সমতুল্য।
সাম্প্রতিক এই হামলাগুলো রাশিয়া-ইউক্রেন চলমান সংঘাতকে আরও তীব্র করে তুলতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
হাফিজ/ আয়না নিউজ