বিশেষ প্রতিনিধি, nipon।।
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ইনডোর গেমস প্রতিযোগিতার পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে জকসুর ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈমকে থাপ্পড় মারার অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলীর বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) বিকেল ৩টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে আয়োজিত ওই অনুষ্ঠানে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিতেই এ ঘটনা ঘটে বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, ইনডোর গেমসের ক্যারম ইভেন্টে দুটি দল ফাইনালে ওঠে। এর মধ্যে একটি দলে ছাত্রদল নেত্রী সাদিয়া সুলতানা নেলী ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, খেলাটি নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ ওঠায় ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিস আনোয়ার নাঈম দুটি দলকে যৌথভাবে বিজয়ী ঘোষণা বা খেলা স্থগিতের প্রস্তাব দেন। এ নিয়ে উভয় পক্ষের মধ্যে বাগবিতণ্ডা ও উত্তেজনা তৈরি হয়।
পরবর্তীতে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে সাদিয়া সুলতানা নেলী ক্রীড়া সম্পাদক জর্জিসকে পাশে ডেকে নিয়ে যান বলে জানা যায়। সেখানে কথাবার্তার এক পর্যায়ে তিনি তাকে ভবিষ্যতে দেখে নেওয়ার হুমকি দেন। এরপর জর্জিস তাকে ধন্যবাদ জানালে নেলী সজোরে তাকে থাপ্পড় মারেন বলে অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী।
জর্জিস আনোয়ার নাঈম বলেন, আমি অনিয়ম দেখে খেলা স্থগিত বা দুই দলকে যৌথভাবে বিজয়ী করার কথা বলি। এরপর থেকেই উনি উত্তেজিত হয়ে আমাকে হুমকি দেন। পরে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে আমাকে ডেকে নিয়ে অপমান করে সবার সামনে থাপ্পড় মারেন। আমি পুরো ঘটনাটিতে হতবাক হয়ে যাই।
তিনি আরও জানান, বিষয়টি তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কাছে অভিযোগ করেছেন এবং পরবর্তীতে প্রক্টরিয়াল টিমকে জানানো হয়েছে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সাদিয়া সুলতানা নেলী বিষয়টি স্বীকার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্ট দেন। সেখানে তিনি দাবি করেন, ক্রীড়া সম্পাদক স্বজনপ্রীতি করেছেন এবং নিয়মবহির্ভূতভাবে দুটি দলকে চ্যাম্পিয়ন করার চেষ্টা করেছেন। তার ভাষায়, “স্বজনপ্রীতি করলে এর চেয়ে বেশি থাপ্পড় খাবেন। এখন তো শুধু একটা দেওয়া হয়েছে। আমার কাছে এর প্রমাণও আছে।”
এ বিষয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক নাসির উদ্দীন বলেন, আমি ঘটনাটি নিজে দেখিনি। তবে শুনেছি পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। উভয় পক্ষ ভিসি স্যারের কাছে গিয়েছিল। ভিসি স্যার বিষয়টি সমাধানের জন্য সংশ্লিষ্ট একজন শিক্ষককে দায়িত্ব দিয়েছেন।
ঘটনাটি নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে উত্তেজনা ও আলোচনার সৃষ্টি হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ