বিশেষ প্রতিনিধি, Hafizur Rahman।।
ইউরোপের বলকান অঞ্চলের দেশ সার্বিয়ায় প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভুচিচের পদত্যাগ ও আগাম নির্বাচনের দাবিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে রাজধানী বেলগ্রেড। স্থানীয় সময় শনিবার বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে আয়োজিত এই বিশাল সমাবেশে হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। একপর্যায়ে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে দাঙ্গা পুলিশের সংঘর্ষে পুরো এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ২৩ জনকে আটক করেছে দেশটির পুলিশ।
বার্তা সংস্থা এপির প্রতিবেদনে বলা হয়, বেলগ্রেডের কেন্দ্রীয় একটি চত্বরে শুরু হওয়া সমাবেশটি প্রথমে শান্তিপূর্ণ ছিল। তবে পরে আন্দোলনকারীদের একাংশ পুলিশের নিরাপত্তা ব্যারিকেড ভাঙার চেষ্টা করলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা পুলিশকে লক্ষ্য করে পাথর ও বোতল ছুড়ে মারলে পুলিশ পাল্টা লাঠিচার্জ করে এবং বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে রাসায়নিক পেপার স্প্রে ব্যবহার করে।
দফায় দফায় সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও রাজধানীজুড়ে উত্তেজনা বিরাজ করছে। আন্দোলনকারীরা অভিযোগ করেছেন, প্রেসিডেন্ট ভুচিচের সরকার দীর্ঘদিন ধরে একনায়কতান্ত্রিকভাবে দেশ পরিচালনা করছে এবং বিরোধী মত দমনে কঠোর অবস্থান নিয়েছে।
এর আগে ২০২৪ সালের নভেম্বরে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলে একটি ট্রেন স্টেশনে ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সরকারের অব্যবস্থাপনা ও জবাবদিহির দাবিতে দেশজুড়ে বড় ধরনের বিক্ষোভ শুরু হয়। সেই আন্দোলন দমনে প্রশাসন কঠোর অবস্থান নিলেও, শনিবারের বিশাল জনসমাগমে স্পষ্ট হয়েছে যে সরকারের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখনো তীব্র আকারে রয়ে গেছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে নতুন করে শুরু হওয়া এই আন্দোলন প্রেসিডেন্ট ভুচিচ সরকারের জন্য বড় ধরনের রাজনৈতিক চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিরোধী দলগুলোও আন্দোলনের প্রতি সমর্থন জানিয়ে অবিলম্বে অবাধ ও নিরপেক্ষ আগাম নির্বাচনের দাবি তুলেছে। তবে সরকারের পক্ষ থেকে আন্দোলন দমনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার আভাস পাওয়া যাচ্ছে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ