বিশেষ প্রতিনিধি, Md Al Rajib।।
পারমাণবিক চুক্তি ও মধ্যপ্রাচ্য ইস্যুতে ওয়াশিংটনের দেওয়া সাম্প্রতিক প্রস্তাব যখন তেহরানের টেবিলে আলোচনার অপেক্ষায়, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালীর ওপর নিজেদের কঠোর নিয়ন্ত্রণের বার্তা দিল ইরান। দেশটির কর্তৃপক্ষ ও রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমগুলো স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে কৌশলগত এই জলপথের নিয়ন্ত্রণ তাদের কাছে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
শনিবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সাংবাদিকদের জানান, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে আসা ওয়াশিংটনের প্রস্তাবটি বর্তমানে পর্যালোচনা করছে তেহরান। তবে আলোচনার মধ্যেই দেশটির প্রথম ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ রেজা আরিফ সরাসরি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হরমুজ প্রণালীর ওপর ইরানের কর্তৃত্বই হবে মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মোক্ষম জবাব। বিশেষ করে ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধে ট্রাম্প প্রশাসনের নেওয়া পদক্ষেপগুলো নস্যাৎ করতে এই জলপথকে কৌশলগত হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করবে তারা।
মধ্যপ্রাচ্যের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের নিয়ন্ত্রণকে পারমাণবিক বোমার সঙ্গে তুলনা করেছেন ইরানের পার্লামেন্টের ডেপুটি স্পিকার আলি নিকজাদ। আমার কাছে হরমুজ প্রণালি একটি পারমাণবিক বোমার চেয়েও অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। সরাসরি বললে, আমাদের পারমাণবিক বোমাই হলো এই হরমুজ প্রণালি। যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পাঁচ হাজার পারমাণবিক বোমা থাকতে পারে, কিন্তু আমাদের কাছে পারমাণবিক অস্ত্র থাকলেও আমরা কখনো তা ব্যবহার করব না। রোববার (৭ জুন) ইরানের সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালিই ইরানের পারমাণবিক বোমা।
ফেব্রুয়ারি ২৮ তারিখ থেকে শুরু হওয়া সাম্প্রতিক যুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিভিন্ন বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেন নিকজাদ। তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের কোনো বক্তব্যেই বিশ্বাসযোগ্যতা নেই। অন্যদিকে যুদ্ধের ব্যাপারে ইরানের একটি সুদৃঢ় আদর্শিক অবস্থান রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
হরমুজ প্রণালি আর আগের মতো স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে না। এ বিষয়ে ইরানের পার্লামেন্টে শিগগিরই একটি আইন পাস করা হবে এবং সে অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান ডেপুটি স্পিকার আলি নিকজাদ।
গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালীতে চলাচলকে কেন্দ্র করে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলোর মধ্যে কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে, যা ওই অঞ্চলে যুদ্ধের উত্তেজনাকে আরও উসকে দিয়েছে।
আল রাজীব/ আয়না নিউজ