বিশেষ প্রতিনিধি, Md Al Rajib।।
নাগরিক সেবা আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক করতে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) উদ্যোগে ধানমন্ডিতে গণশুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার ডিএসসিসির অঞ্চল-১-এর আওতাধীন বিভিন্ন নাগরিক সমস্যা ও সেবার মানোন্নয়ন নিয়ে ধানমন্ডির রাশিয়ান কালচারাল সেন্টারে এ গণশুনানির আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, রেলপথ এবং নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপি। এতে সভাপতিত্ব করেন ডিএসসিসির প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আবদুস সালাম।
গণশুনানিতে ধানমন্ডি, নিউমার্কেট, কলাবাগান, শাহবাগসহ আশপাশের এলাকার বাসিন্দা, ব্যবসায়ী, সুশীল সমাজের প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা অংশ নেন। এ সময় বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক ও অবকাঠামো উন্নয়ন, জলাবদ্ধতা, পরিচ্ছন্নতা, ট্রেড লাইসেন্স, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং জনস্বাস্থ্যসহ বিভিন্ন নাগরিক সেবা নিয়ে মতামত, অভিযোগ ও পরামর্শ তুলে ধরেন নাগরিকরা।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম বলেন, নাগরিক সেবা নিশ্চিত করতে সরকার জনগণের অংশীদারিত্বভিত্তিক একটি জবাবদিহিমূলক ব্যবস্থা গড়ে তুলতে চায় এবং ডিএসসিসির এই গণশুনানি তারই একটি কার্যকর উদাহরণ। তিনি বলেন, নগর ব্যবস্থাপনায় সরকার, সিটি কর্পোরেশন ও জনগণ—সবারই নিজ নিজ দায়িত্ব রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, ধানমন্ডি লেক কোনোভাবেই বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহার করতে দেওয়া হবে না। পাশাপাশি ধানমন্ডি এলাকার জলাবদ্ধতা নিরসনে প্রায় ৩৫০ কোটি টাকার একটি প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হকার কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণ এবং জনস্বার্থ সংশ্লিষ্ট বিষয়ে কঠোর নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সভাপতির বক্তব্যে ডিএসসিসি প্রশাসক মো. আবদুস সালাম বলেন, কোরবানির বর্জ্য অপসারণসহ সার্বিক পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে ডিএসসিসি অতীতের সব রেকর্ড অতিক্রম করেছে। তবে একটি পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য নগর গড়ে তুলতে নাগরিকদেরও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
ধানমন্ডি লেকের উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়ে তিনি বলেন, লেকটিকে আরও নান্দনিক, পরিবেশবান্ধব ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলা হবে এবং সেখানে কোনো ধরনের বাণিজ্যিক প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে না।
হকার ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে ডিএসসিসি প্রশাসক জানান, নির্ধারিত স্থানে হকারদের ব্যবসা পরিচালনার ব্যবস্থা করা হবে এবং ব্যবসা শেষে ময়লা-আবর্জনা নির্দিষ্ট স্থানে রাখার বিষয়ে তাদের সচেতন করা হবে। পাশাপাশি নগর ব্যবস্থাপনায় শৃঙ্খলা আনতে রিকশাচালক ও হকারদের নিবন্ধনের আওতায় আনার পরিকল্পনাও রয়েছে। যথাযথ নিবন্ধন ছাড়া কেউ ঢাকায় এসে তাৎক্ষণিকভাবে হকারি বা রিকশা চালাতে পারবেন না।
তিনি আরও বলেন, গণশুনানিতে নাগরিকদের উত্থাপিত অভিযোগ, পরামর্শ ও প্রত্যাশাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোর মাধ্যমে দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে।
ডিএসসিসি সূত্র জানায়, নাগরিক অংশগ্রহণভিত্তিক নগর ব্যবস্থাপনা জোরদার করতে পর্যায়ক্রমে সংস্থাটির ১০টি অঞ্চলেই এ ধরনের গণশুনানির আয়োজন করা হবে।
তানভীর খান