পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনকে ঘিরে বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে তীব্র বিতর্কের মধ্যে মুখ খুললেন রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। তিনি দাবি করেছেন, এসব সমীক্ষা বাস্তবতার প্রতিফলন নয়, বরং রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা হয়েছে।
৩০ এপ্রিল এক ভিডিওবার্তায় তৃণমূল কংগ্রেস নেত্রী বলেন, এবারের নির্বাচনে তাঁর দল ২২৬টির বেশি আসন পাবে এবং ২৩০-ও ছুঁতে পারে। তিনি অভিযোগ করেন, ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি) অর্থের বিনিময়ে সংবাদমাধ্যমকে প্রভাবিত করে বুথফেরত সমীক্ষা প্রকাশ করিয়েছে।
দ্বিতীয় দফার ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সমীক্ষায় বিজেপিকে এগিয়ে রাখা হলেও, মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তা সম্পূর্ণভাবে খারিজ করে দেন। তাঁর বক্তব্য, “মানুষ যেভাবে ভোট দিয়েছেন, তাতে আমাদের জয়ের বিষয়ে আমি সম্পূর্ণ নিশ্চিত।”
এছাড়া ভোট চলাকালীন কেন্দ্রীয় বাহিনী ও পুলিশের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। অভিযোগ করেন, তৃণমূল কর্মীদের ওপর অত্যাচার করা হয়েছে এবং অনেক জায়গায় তাঁদের ভোট প্রক্রিয়া থেকে দূরে রাখার চেষ্টা হয়েছে।
গণনার দিন বিশেষ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে তিনি দলীয় কর্মীদের বলেন, গণনাকেন্দ্রে কড়া নজরদারি রাখতে হবে, যাতে ইভিএম বা ভোট প্রক্রিয়ায় কোনো কারচুপি না হয়। প্রয়োজনে নিজেও গণনাকেন্দ্রে উপস্থিত থাকবেন বলে জানান তিনি।
একই সঙ্গে কর্মীদের শান্ত ও সংযত থাকার আহ্বান জানিয়ে মমতা বলেন, “উস্কানিতে পা না দিয়ে গণতান্ত্রিকভাবে লড়াই চালিয়ে যেতে হবে।”
উল্লেখ্য, ২৯৪ আসনের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভায় সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজন ১৪৮টি আসন। বুথফেরত সমীক্ষা নিয়ে রাজনৈতিক উত্তেজনা চরমে পৌঁছালেও চূড়ান্ত ফলাফলই নির্ধারণ করবে রাজ্যের পরবর্তী সরকার।
সূত্র : আনন্দবাজার
হাফিজ/ আয়না নিউজ