সাবেক
বসনিয়ান সার্ব সামরিক প্রধান রাটকো ম্লাদিচ গুরুতর অসুস্থ। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে যুদ্ধাপরাধের দায়ে সাজাপ্রাপ্ত হওয়ায়
তার জীবন মৃত্যুর সন্দিক্ষনে
মুক্তির আবেদন জানিয়েছেন ম্লাদিচের আইনজীবীরা। শুক্রবার (১ মে) ব্রিটিশ
সংবাদমাধ্যম বিবিসি এক প্রতিবেদনে এ
তথ্য জানিয়েছে।
৮৪ বছর বয়সী ম্লাদিচ
দীর্ঘদিন ধরে শয্যাশায়ী। সম্প্রতি
স্ট্রোকের পর তার শারীরিক
অবস্থার দ্রুত অবনতি হওয়ায় প্রায় কথা বলতে অক্ষম
হয়ে পড়েছেন তিনি। জাতিসংঘের আদালতে দাখিল করা বিস্তারিত আবেদনে
তার আইনজীবীরা আদালতকে জানিয়েছেন, চিকিৎসক তার অবস্থা গুরুতর
মূল্যায়ন করে তার “তাৎক্ষণিক
মৃত্যুর ঝুঁকি উচ্চ” উল্লেখ করে তাকে সাময়িক
বা শর্তসাপেক্ষ মুক্তি দিয়ে একটি সার্বীয়
ভাষার হাসপাতালে স্থানান্তরের আবেদন করেছেন তার আইনজীবীরা।
আবেদনের
পরিপ্রেক্ষিতে বিচারক গ্রাসিয়েলা গাত্তি সান্তানা ম্লাদিচের জন্য স্বাধীন স্বাস্থ্য
মূল্যায়নের নির্দেশ দিয়েছেন যা শুক্রবার আদালতে
জমা দেওয়ার কথা ছিল। পরোক্ষভাবে
তার আইনজীবীরা রাটকো ম্লাদিচকে নিজ দেশে ফিরিয়ে
নেওয়ার ব্যবস্থার প্রতিও জোর দিয়েছেন যদি
তাকে মুক্তি দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন-
বোমা বিস্ফোরণে ১৪ আইআরজিসি সদস্য নিহত
রাটকো
ম্লাদিচ বসনিয়ান সার্ব বাহিনীর কমান্ডার ছিলেন ১৯৯২ থেকে ১৯৯৫
সালের বসনিয়া যুদ্ধের সময়। তার নেতৃত্বে
বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় জাতিগত নিধন, সারায়েভো অবরোধ এবং ভয়াবহ সহিংসতা
সংঘটিত হয়, যেখানে হাজার
হাজার মানুষ নিহত হয়। বিশেষ
করে স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা-তে প্রায় ৮
হাজার বসনিয়াক পুরুষ ও কিশোরকে হত্যা
করা হয়, যা দ্বিতীয়
বিশ্বযুদ্ধের পর ইউরোপের অন্যতম
ভয়াবহ গণহত্যা হিসেবে পরিচিত।
পলাতক
ম্লাদিচ ২০১১ সালে সার্বিয়ার
একটি গ্রামাঞ্চল থেকে গ্রেপ্তার হলে
২০১৭ সালে তাকে গণহত্যা
ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড
দেওয়া হয়। তিনি ২০১১
সাল থেকে দ্য হেগের
জাতিসংঘ আটক কেন্দ্রে বন্দি
রয়েছেন। তার বর্তমান শারীরিক
অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে আইনজীবীর দাবি বর্তমান চিকিৎসা
ব্যবস্থা তার জন্য যথেষ্ট
নয় এবং তাকে বন্দি
রাখা অমানবিক শাস্তি।
বসনিয়ার
যুদ্ধভুক্তভোগী ও সারভাইভার সংগঠনগুলো
ম্লাদিচের মুক্তির তীব্র বিরোধিতা করে জানিয়েছে, এটি
মানবিক আবেদন নয় বরং দীর্ঘদিন
ধরে চলা একটি আইনি
কৌশল, যা অতীতের নৃশংসতার
বিচার দুর্বল করার চেষ্টা। ২০২৫
সালেও ম্লাদিচের মুক্তির আবেদন আদালত প্রত্যাখ্যান করে এবং পারিবারিক
কারণে সাময়িক মুক্তির আবেদনও পরবর্তীতে খারিজ হয়।
এফ এ/আয়না