বিশ্বে অত্যন্ত বিরল এক ঘটনা সামনে এসেছে, যেখানে একই মায়ের গর্ভে জন্ম নেওয়া যমজ দুই বোনের বাবার পরিচয় আলাদা বলে ডিএনএ পরীক্ষায় নিশ্চিত হওয়া গেছে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় এই ঘটনাকে বলা হয় হেটারোপ্যাটারনাল সুপারফেকান্ডেশন।
ঘটনাটি ঘটেছে যুক্তরাজ্যে জন্ম নেওয়া যমজ বোন মিশেল ও লাভিনিয়ার জীবনে। শৈশব থেকেই তারা একে অপরের খুব কাছের ছিলেন এবং নিজেদের যমজ পরিচয় নিয়েই বড় হয়েছেন। তবে ২০২২ সালে একটি ডিএনএ পরীক্ষার ফল তাদের জীবনে বড় ধাক্কা নিয়ে আসে।
পরীক্ষায় দেখা যায়, দুই বোন একই মায়ের সন্তান হলেও তাদের জৈবিক বাবা ভিন্ন। অর্থাৎ তারা জেনেটিকভাবে পূর্ণাঙ্গ যমজ নয়, বরং সৎ বোনও বলা যেতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই ধরনের ঘটনা ঘটে তখনই যখন একজন নারী একই মাসিক চক্রে একাধিক ডিম্বাণু নিঃসরণ করেন এবং খুব অল্প সময়ের ব্যবধানে ভিন্ন দুই পুরুষের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের ফলে পৃথকভাবে নিষেক ঘটে। বিশ্বে এ ধরনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল—এ পর্যন্ত মাত্র কয়েক ডজন উদাহরণ নথিভুক্ত হয়েছে।
জানা গেছে, মিশেল ও লাভিনিয়া ১৯৭০-এর দশকে জন্মগ্রহণ করেন। ছোটবেলায় তারা মায়ের সান্নিধ্য খুব বেশি পাননি এবং এক পর্যায়ে নানির কাছে বড় হন। পরবর্তীতে তাদের জীবনে বাবার পরিচয় নিয়ে সন্দেহ তৈরি হলেও সত্য প্রকাশ পায় বহু বছর পর ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে।
পরীক্ষার পর জানা যায়, মিশেলের জৈবিক বাবা একজন ব্যক্তি এবং লাভিনিয়ার বাবা অন্যজন। এই সত্য জানার পর দুই বোন মানসিকভাবে কিছুটা বিচলিত হলেও তারা একে অপরের প্রতি তাদের সম্পর্ককে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছেন।
লাভিনিয়া বলেন, এই আবিষ্কার তাদের জীবনের সত্যকে বদলে দিলেও বোন হিসেবে তাদের বন্ধন অটুট থাকবে। মিশেলও একই মত প্রকাশ করে জানান, পারিবারিক সম্পর্কের চেয়েও তাদের দীর্ঘদিনের ভালোবাসা ও বন্ধন বেশি শক্তিশালী।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই ঘটনা চিকিৎসাবিজ্ঞানের জন্য যেমন গুরুত্বপূর্ণ, তেমনি মানবজীবনের জটিল জেনেটিক বাস্তবতাকেও নতুনভাবে সামনে নিয়ে আসে।
হাফিজ/আয়না নিউজ