মার্কিন বাহিনীকে ‘জলদস্যু’ আখ্যা দিয়ে হরমুজ প্রণালিকে ‘কবরস্থান’ বানানোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন ইরানের এক শীর্ষ কর্মকর্তা। দেশটির সাবেক আইআরজিসি কমান্ডার ও এক্সপেডিয়েন্সি কাউন্সিলের সচিব মোহসেন রেজায়ি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বক্তব্যে এ হুঁশিয়ারি দেন।
তিনি বলেন, “যুক্তরাষ্ট্রই বিশ্বের একমাত্র জলদস্যু, যাদের কাছে বিমানবাহী রণতরী রয়েছে। জলদস্যুদের মোকাবিলার সক্ষমতা যেমন আমাদের আছে, তেমনি যুদ্ধজাহাজ ডুবিয়ে দেওয়ার সক্ষমতাও কম নয়।” একই সঙ্গে তিনি দাবি করেন, মার্কিন বাহিনীর জন্য হরমুজ প্রণালিকে ‘কবরস্থান’ বানানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে ইরান।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানকে ঘিরে আবারও কঠোর বার্তা দিয়েছেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, তেহরান ‘খারাপ আচরণ’ করলে যুক্তরাষ্ট্র পুনরায় সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে। সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানান, ইরানের সঙ্গে সম্ভাব্য একটি চুক্তির প্রস্তাব সম্পর্কে তাকে অবহিত করা হয়েছে, তবে চূড়ান্ত খসড়া এখনও হাতে পাননি।
এ প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রকে ১৪ দফার একটি পাল্টা প্রস্তাব দিয়েছে ইরান। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের বরাত দিয়ে জানা গেছে, প্রস্তাবে নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া এবং ইরান-লেবাননে স্থায়ীভাবে সংঘাতের অবসানে এক মাসের সময়সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইরানের প্রস্তাব অনুযায়ী, নির্ধারিত সময়ে চুক্তি বাস্তবায়িত হলে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার সময় আরও এক মাস বাড়ানো যেতে পারে। এছাড়া ভবিষ্যতে ইরানে কোনো সামরিক আগ্রাসন না চালানোর নিশ্চয়তা, জব্দকৃত ইরানি সম্পদ মুক্তি, যুদ্ধের ক্ষতিপূরণ এবং মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
প্রস্তাবে লেবাননে সংঘাত বন্ধ এবং হরমুজ প্রণালি পরিচালনার জন্য নতুন কাঠামো গঠনের দাবিও জানানো হয়েছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, এই প্রস্তাব গ্রহণ বা প্রত্যাখ্যানদুই ক্ষেত্রেই মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতিতে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব পড়তে পারে।
হাফিজ/ আয়না নিউজ