দীর্ঘ প্রায় দেড় দশক পর পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। সোমবার (৪ মে) বিধানসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর দেখা যায়, নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়তে যাচ্ছে বিজেপি। ২৯৩টি আসনের মধ্যে ২০৬টিতে জয় পেয়ে এককভাবেই ক্ষমতায় ফিরছে দলটি।
অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন তৃণমূল কংগ্রেস বড় ধরনের ভরাডুবির মুখে পড়ে মাত্র ৮০টি আসনে সীমাবদ্ধ রয়েছে। নির্বাচনের ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, গত নির্বাচনের তুলনায় তৃণমূলের ভোটের হার কমে দাঁড়িয়েছে ৪০.৮০ শতাংশে। বিপরীতে বিজেপির ভোট বেড়ে হয়েছে ৪৫.৮৪ শতাংশ।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তৃণমূলের হারানো ভোটের বড় অংশই বিজেপির ঝুলিতে যাওয়ায় এই বিশাল জয় সম্ভব হয়েছে। নির্বাচনের শুরু থেকেই বিজেপির ‘২০০ পার’ স্লোগান শেষ পর্যন্ত বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
এবারের নির্বাচনে তৃণমূলের শীর্ষ নেতাদের পরাজয়ও বড় আলোচনার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। নন্দীগ্রাম ও ভবানীপুর—দুই গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে জয় পেয়েছেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। অন্যদিকে, প্রায় ১৫ হাজার ভোটের ব্যবধানে হেরে গেছেন বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জী। পাশাপাশি সুজিত বসু, চন্দ্রিমা ভট্টাচার্য, শশী পাঁজা, ব্রাত্য বসু ও অতীন ঘোষসহ বেশ কয়েকজন প্রভাবশালী নেতা নিজ নিজ আসনে পরাজিত হয়েছেন।
ডায়মন্ড হারবার মডেলও এবার তৃণমূলের ভরাডুবি ঠেকাতে পারেনি। তবে বড় দুই দলের বাইরে কিছু আসনে জয় পেয়েছে অন্যান্য দলও। আইএসএফ-এর নৌশাদ সিদ্দিকির জয় বিশেষভাবে নজর কেড়েছে। এছাড়া কংগ্রেস, সিপিএম ও অন্যান্য দলের প্রার্থীরাও কয়েকটি আসনে জয়লাভ করেছেন।
এদিকে রাজারহাট নিউটাউন কেন্দ্রে এখনও হাড্ডাহাড্ডি লড়াই চলছে, যেখানে তৃণমূল প্রার্থী সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছেন।
বিপুল এই জয়ের পর রাজ্যজুড়ে উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে বিজেপি কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে। সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের এই নির্বাচন পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা করল।
হাফিজ/ আয়না নিউজ