পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা নির্বাচনে আবেগ, প্রতিবাদ ও ন্যায়বিচারের দাবিকে সঙ্গে নিয়ে ঐতিহাসিক জয় পেয়েছেন ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ। উত্তর ২৪ পরগনার পানিহাটি কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে তিনি ২৮ হাজার ৮৩৬ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন।
সোমবার সকালে মেয়ের ছবিতে হাত বুলিয়ে ভোট গণনাকেন্দ্রের উদ্দেশ্যে রওনা দেন রত্না দেবনাথ। পানিহাটির গুরু নানক ডেন্টাল কলেজে গণনা শুরুর পর থেকেই ধীরে ধীরে এগিয়ে যেতে থাকেন তিনি। সময়ের সঙ্গে বাড়তে থাকে তার লিড। একপর্যায়ে তা ২০ হাজার ছাড়িয়ে যায়। গণনাকেন্দ্রে শান্তভাবে বসে থাকলেও মাঝে মাঝে বিজেপি কর্মীরা এসে তাকে জয়ের খবর জানাচ্ছিলেন।
শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানে জয় নিশ্চিত হওয়ার পর আবেগাপ্লুত কণ্ঠে রত্না দেবনাথ বলেন, “আমি না, আজ গোটা পানিহাটি জিতেছে, গোটা রাজ্য জিতেছে। আমার মেয়েকে কেউ ভোলেনি।”
এই কেন্দ্রের লড়াই ছিল ত্রিমুখী। তৃণমূল কংগ্রেসের প্রার্থী তীর্থঙ্কর ঘোষ দ্বিতীয় এবং সিপিএম প্রার্থী কলতান দাশগুপ্ত তৃতীয় হয়েছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, পরিবারতন্ত্রের বিরুদ্ধে রত্না দেবনাথের প্রচার এবং ‘অভয়া’র ঘটনার আবেগ—দুটিই তার জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের আগস্টে কলকাতার আর জি কর মেডিক্যাল কলেজ ও হাসপাতালে এক তরুণী চিকিৎসক ধর্ষণ ও হত্যার শিকার হন। পরিচয় গোপন রাখতে তাকে ‘অভয়া’ নামে অভিহিত করা হয়। সেই ঘটনায় তীব্র ক্ষোভে ফেটে পড়ে গোটা দেশ। দীর্ঘ আইনি লড়াইয়ের পর এবার রাজনীতির ময়দানে নেমে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে আসেন তার মা।
প্রচারণার সময় রত্না দেবনাথ বারবার বলেছেন, “আমি জিতলে আমার মেয়ে জিতবে, ন্যায়বিচার জিতবে।” তার এই বার্তায় সাড়া দিয়েছেন পানিহাটির সাধারণ মানুষ।
জয়ের পর তিনি সহিংসতা পরিহারের আহবান জানিয়ে বলেন, “কোথাও যেন কারো গায়ে হাত না ওঠে। বিরোধীদের কেউ আক্রান্ত হলে আমি নিজে সেখানে যাব।”
চোখে জল নিয়ে তিনি আরও বলেন, “আমি কিভাবে রাজনীতিতে এলাম, সেটা নিজেই জানি না। বাড়ি গিয়ে মেয়ের ছবিকে জড়িয়ে ধরব।”
এই বিজয়ের মাধ্যমে ব্যক্তিগত শোককে শক্তিতে রূপান্তর করে রাজনৈতিক অঙ্গনে এক ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করলেন ‘অভয়া’র মা রত্না দেবনাথ।
হাফিজ/ আয়না নিউজ