বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল ও সরকার গঠন নিয়ে সাংবিধানিক সংকটে নজিরবিহীন অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ। তৈরি হয়েছে নতুন করে উত্তেজনা। নির্বাচনে পরাজয়ের পরও মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব ছাড়তে রাজি নন পশ্চিমবঙ্গের বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জি। তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগ না করার অবস্থান জানিয়ে দিয়েছেন বলেও দাবি করা হচ্ছে। এ পরিস্থিতিতে রাজ্যের রাজনৈতিক অস্থিরতা আরও বেড়েছে।
তিনি স্পষ্ট বলেছেন, তারা আমাকে বরখাস্ত করুক। আমি চাই আজকের দিনটি কালো দিন হিসেবে চিহ্নিত হোক। রাষ্ট্রপতি শাসন জারি হলে হোক। সব রেকর্ড থাকুক।
ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী নির্ধারিত সময়সীমার মধ্যে নতুন সরকার গঠিত না হলে সাময়িক প্রশাসনিক শূন্যতা তৈরি হতে পারে। এই প্রেক্ষাপটে সংবিধানের ১৭২ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বিদায়ী সরকারের মেয়াদ শেষ হলে পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় শাসন বা রাষ্ট্রপতি শাসন জারির সম্ভাবনা নিয়ে আইন বিশেষজ্ঞরা মত দিচ্ছেন।
বিশেষজ্ঞদের একটি অংশের মতে, নতুন সরকার শপথ নেওয়ার আগ পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টার একটি শূন্য প্রশাসনিক পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে এই সময়কালে কী ধরনের সাংবিধানিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা নিয়ে এখনো স্পষ্ট সিদ্ধান্ত হয়নি।
অন্যদিকে, গেজেট নোটিফিকেশন প্রকাশের পর সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ভিত্তিতে নতুন সরকার গঠনের প্রক্রিয়া এগোচ্ছে বলে জানা গেছে। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের মতে, এই পরিস্থিতিতে কেন্দ্রের সমর্থনপুষ্ট দল সরকার গঠনের জন্য আমন্ত্রণ পেতে পারে।
এদিকে প্রবীণ আইনজীবী হরিশ সালভে বলেছেন বলে উল্লেখ করা হচ্ছে যে, রাজ্যপাল চাইলে বিদায়ী মুখ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করতে পারেন এবং অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কেয়ারটেকার প্রশাসনের ব্যবস্থা রাখা যেতে পারে। তবে সেই প্রক্রিয়ার মধ্যেও অল্প সময়ের জন্য প্রশাসনিক শূন্যতা সৃষ্টি হলে রাষ্ট্রপতি শাসন জারির আইনি ভিত্তি তৈরি হতে পারে।
পুরো পরিস্থিতি এখনো রাজনৈতিক ও সাংবিধানিক আলোচনার পর্যায়ে রয়েছে বলে বিশ্লেষকদের অভিমত।
হাফিজ/ আয়না নিউজ