ভারতের পশ্চিমবঙ্গের নতুন মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। আগামীকাল শনিবার (৯ মে) তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ গ্রহণ করবেন।
শুক্রবার (৮ মে) কোলকাতায় বিজেপির নেতৃত্বাধীন সংসদীয় দলের বৈঠকে তাকে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে নির্বাচিত করা হয়। বৈঠকে শুভেন্দুর নাম প্রস্তাব করেন বিজেপির সাবেক রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ।
এতে উপস্থিত ছিলেন ভারতের কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। তিনি বৈঠকের প্রধান পর্যবেক্ষকের দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া উপ-পর্যবেক্ষক হিসেবে ছিলেন ওড়িশার মুখ্যমন্ত্রী মোহন চড়ন মাঝি।
শুভেন্দু অধিকারীর মুখ্যমন্ত্রী নির্বাচনের মধ্য দিয়ে পশ্চিমবঙ্গে মমতা ব্যানার্জির টানা ১৫ বছরের শাসনের অবসান ঘটছে। সদ্য অনুষ্ঠিত বিধানসভা নির্বাচনে ২৯৪ আসনের মধ্যে ২০৭টিতে জয় পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে বিজেপি।
গত ২৩ ও ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। পরে ৪ মে ভোট গণনায় বিজেপির বড় জয় নিশ্চিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই ফলাফল রাজ্যের রাজনৈতিক ইতিহাসে একটি বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।
শুভেন্দু অধিকারী একসময় তৃণমূল কংগ্রেসের গুরুত্বপূর্ণ নেতা ছিলেন। তিনি মমতা ব্যানার্জির মন্ত্রিসভায় দায়িত্বও পালন করেন। তবে ২০২০ সালে তৃণমূল ছেড়ে বিজেপিতে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকেই রাজ্যের রাজনীতিতে তিনি বিজেপির অন্যতম প্রধান মুখ হয়ে ওঠেন।
২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে নন্দীগ্রাম আসনে মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করে আলোচনায় আসেন শুভেন্দু। এবারের নির্বাচনেও তিনি ভবানিপুর আসনে জয় পান। ওই আসনটি দীর্ঘদিন ধরে মমতার রাজনৈতিক ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল। সেখানে তিনি মমতার চেয়ে ১৫ হাজারের বেশি ভোটে এগিয়ে ছিলেন বলে জানা গেছে।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পশ্চিমবঙ্গে এবার দুজন উপ-মুখ্যমন্ত্রীও নিয়োগ দিতে পারে বিজেপি। গত দুই দশকে রাজ্যে উপ-মুখ্যমন্ত্রীর পদে কাউকে দায়িত্ব দেওয়া হয়নি।
হাফিজ/ আয়না নিউজ