চীনের প্রেসিডেন্ট সি জিনপিং ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীনের গ্রেট হল অফ পিপলে বৃহস্পতিবার (১৪ মে) চীনের স্থানীয় সময় ২টা ৩০ মিনিটে বৈঠকে বসেছেন। বৈঠকের আগে চীনের শিশুরা গ্রেট হল অফ পিপলের সামনে ট্রাম্পকে অভিবাদন জানায় এবং তার আগে ট্রাম্প লাল গালিচায় হেঁটে চীনের সামরিক বাহিনীর অভিবাদন গ্রহণ করেন।
বৈঠকে উদ্বোধনী বক্তব্যে ট্রাম্প শি জিনপিংয়ের সঙ্গে দেখা করতে পেরে নিজেকে সম্মানিত বোধ করছেন উল্লেখ করে বলেন, শি জিনপিংয়ের বন্ধু হতে পারাটা আমার জন্য গর্বের। এই সফরে তিনি বিশ্বের সেরা ব্যবসায়ী নেতাদের সঙ্গে নিয়ে এসেছেন শি’কে সম্মান জানাতে। এই বৈঠককে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সম্মেলন উল্লেখ করে ট্রাম্প আরও বলেন,তিনি এই আলোচনার জন্য মুখিয়ে আছেন।
শি জিনপিং বলেন, এই বৈঠকের দিকে পুরো বিশ্ব তাকিয়ে আছে। বর্তমানে শতাব্দীতে দেখা যায়নি এমন পরিবর্তন দ্রুতগতিতে ঘটছে, আর আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি অস্থির ও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশ্ব এখন এক নতুন মোড়ে এসে দাঁড়িয়েছে। চীন ও যুক্তরাষ্ট্র কি থুসিডাইসিস ট্র্যাপ এড়িয়ে সম্পর্কের নতুন দৃষ্টান্ত গড়তে পারবে? আমরা কি একসঙ্গে বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে বিশ্বকে আরও স্থিতিশীল করতে পারব? আমাদের দুই দেশ, দুই দেশের জনগণ এবং মানবজাতির ভবিষ্যতের স্বার্থে কি আমরা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ে তুলতে পারব উল্লেখ করে তিনি বলেন এগুলো ইতিহাস, বিশ্ব এবং জনগণের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এটাই আমাদের সময়ের প্রশ্ন, যার উত্তর দুই পরাশক্তির নেতাকেদিতে হবে।
আরও পড়ুন-
কিউবায় জ্বালানি সংকটে অন্ধকারে পুরো দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের স্বাধীনতার ২৫০ বছর পূর্তিতেও ট্রাম্প ও মার্কিন জনগণকে অভিনন্দন জানিয়ে চীনের প্রেসিডেন্ট বলেন, আমাদের দুই দেশের মধ্যে মতপার্থক্যের চেয়ে অভিন্ন স্বার্থ বেশি। আমি সবসময় বিশ্বাস করি এক দেশের সাফল্য অন্য দেশের জন্যও সুযোগ তৈরি করে, আর স্থিতিশীল দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে চীন ও যুক্তরাষ্ট্র দুই দেশই লাভবান হবে, আর সংঘাত হলে উভয়েরই ক্ষতি হবে।
আমাদের প্রতিদ্বন্দ্বী নয়, অংশীদার হওয়া উচিত জানিয়ে শি বলেন, তিনি ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করার এবং চীন-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের বিশাল জাহাজকে সঠিক পথে এগিয়ে নিতে একসঙ্গে কাজ করার অপেক্ষায় আছেন, যাতে ২০২৬ সাল ইতিহাসে এমন এক মাইলফলক হয়ে ওঠে, যা দুই দেশের সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।
এফ এ/আয়না