মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে তার অবস্থানে কৌশলগত পরিবর্তনের আভাস দিয়েছেন। দীর্ঘদিন ধরে কঠোর অবস্থানে থাকা ট্রাম্প এবার ইঙ্গিত দিয়েছেন, নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ইরানের পারমাণবিক কার্যক্রম স্থগিত রাখার প্রস্তাবও বিবেচনায় নিতে পারেন।
শুক্রবার (১৫ মে) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে দেওয়া হবে না। তবে স্থায়ীভাবে কর্মসূচি বন্ধের বদলে দীর্ঘমেয়াদি স্থগিতাদেশের বিষয়েও আলোচনা হতে পারে। তার এই বক্তব্যকে বিশ্লেষকরা আগের তুলনায় তুলনামূলক নমনীয় অবস্থান হিসেবে দেখছেন।
সম্প্রতি বেইজিং সফর শেষে এয়ারফোর্স ওয়ানে ফেরার পথে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, ২০ বছরই যথেষ্ট। তবে এটি সত্যিকারের ২০ বছর হতে হবে। যদিও তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি।
এর আগে ট্রাম্প প্রশাসন বারবার বলে এসেছে, ইরানকে স্থায়ীভাবে ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং দেশটিকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জনের সুযোগ দেওয়া হবে না। তবে সর্বশেষ মন্তব্যে ওয়াশিংটনের অবস্থানে কিছুটা পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিয়াং পিংয়ের সঙ্গে বৈঠকের পর ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র ও চীন উভয়ই একমত যে ইরানকে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া যাবে না। একই সঙ্গে তিনি হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার আহবান জানান।
বর্তমানে ইরানের নিয়ন্ত্রণ ও অবরোধের কারণে গুরুত্বপূর্ণ এ নৌপথে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। এতে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়ে গেছে।
আরও পড়ুন :
ইরানকে দ্রুত চুক্তিতে আসার আহবান ট্রাম্পের
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেও এখনো মাঝেমধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটছে। পুরো সংকটে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
ইরানি সংবাদমাধ্যমগুলোর দাবি, তেহরানের পক্ষ থেকে সব ফ্রন্টে যুদ্ধ বন্ধ, ইরানি বন্দরে মার্কিন নৌ অবরোধ প্রত্যাহার এবং ভবিষ্যতে নতুন হামলা না চালানোর নিশ্চয়তা চাওয়া হয়েছে।
এর আগে মার্কিন গণমাধ্যমের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসলামাবাদে অনুষ্ঠিত আলোচনায় ইরান পাঁচ বছরের জন্য ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধের প্রস্তাব দিয়েছিল। তখন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স ন্যূনতম ২০ বছরের শর্ত দেন। এবার প্রথমবারের মতো ট্রাম্প নিজেও প্রকাশ্যে ২০ বছরের সময়সীমার কথা বললেন।
এদিকে বেনজামিন নেতানিয়াহু এখনো ট্রাম্পের সাম্প্রতিক মন্তব্যে আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানাননি। তবে তিনি বলেছেন, ইরানের সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত পুরোপুরি সরিয়ে না নেয়া পর্যন্ত যুদ্ধ শেষ হয়েছে বলা যাবে না।
হাফিজ/ আয়না নিউজ