| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

চায়ের জেলার নতুন চমক, পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষে সম্ভাবনার আলো

  • আপডেট টাইম: 18-05-2026 ইং
  • 31246 বার পঠিত
চায়ের জেলার নতুন চমক, পঞ্চগড়ে বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষে সম্ভাবনার আলো

বদরুদ্দোজা প্রধান,পঞ্চগড় : সবুজ পাতার ফাঁকে ঝুলছে থোকা থোকা আঙ্গুর। দূর থেকে দেখলে মনে হবে যেন দেশের কোনো নয়, বিদেশের কোনো আঙুর বাগান। অথচ দৃশ্যটি পঞ্চগড়ের। চা, ভুট্টা আর আলুর জন্য পরিচিত উত্তরের সীমান্ত জেলা পঞ্চগড় এবার পরিচিতি পাচ্ছে বাণিজ্যিক আঙ্গুর চাষের নতুন সম্ভাবনায়।

পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাফিজাবাদ ইউনিয়নের তালমাসহ জেলার কয়েকটি এলাকায় গড়ে উঠেছে দৃষ্টিনন্দন আঙ্গুর বাগান। প্রতিদিন এসব বাগানে ভিড় করছেন নানা বয়সী মানুষ। কেউ পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসছেন, কেউ ছবি তুলছেন, আবার কেউ আগ্রহ নিয়ে জানতে চাইছেন— কীভাবে চাষ হচ্ছে বিদেশি এই ফল।

স্থানীয় কৃষকদের উদ্যোগ আর কৃষি বিভাগের পরামর্শে পরীক্ষামূলকভাবে শুরু হওয়া আঙ্গুর চাষ এখন আশাব্যঞ্জক সাফল্যের মুখ দেখছে। সবুজ লতায় ঝুলে থাকা বেগুনি ও সবুজ রঙের আঙ্গুরের থোকা এখন এলাকায় নতুন আকর্ষণে পরিণত হয়েছে।

তালমা এলাকার উদ্যোক্তা ও আঙ্গুর চাষি মো. মিরাজ ইসলাম বলেন, শখের বসে প্রথমে কয়েকটি গাছ লাগিয়েছিলাম। পরে দেখি পঞ্চগড়ের মাটি ও আবহাওয়া আঙ্গুর চাষের জন্য বেশ উপযোগী। তখনই বাণিজ্যিকভাবে চাষের সিদ্ধান্ত নিই।

তিনি জানান, বর্তমানে তাঁর বাগানে তিনটি জাতের প্রায় ৪০০টি আঙ্গুর গাছ রয়েছে। গাছগুলোর বয়স মাত্র ১১ মাস হলেও ইতোমধ্যে ভালো ফলন এসেছে।

মিরাজ ইসলাম বলেন, আমাদের আঙ্গুরগুলো খুবই মিষ্টি ও সুস্বাদু। যারা বাগানে আসছেন, তাদের আঙ্গুর খাইয়ে দেখাচ্ছি। সবাই প্রশংসা করছেন। এতে আমরা আরও উৎসাহ পাচ্ছি। পাশাপাশি আমরা চারা উৎপাদন ও বিক্রিও করছি।


স্থানীয় আরেক কৃষক আব্দুর রফিক বলেন, আগে ভাবতাম আঙ্গুর শুধু বিদেশেই হয়। এখন নিজের জমিতে আঙ্গুর ফলাতে পেরে খুব ভালো লাগছে। কৃষি অফিস থেকে নিয়মিত পরামর্শ পাচ্ছি। সরকারি সহায়তা পেলে আরও বড় পরিসরে চাষ করা সম্ভব হবে।

আঙ্গুর বাগান দেখতে আসা দর্শনার্থী আব্দুর রহমান বলেন, পঞ্চগড়ে এভাবে আঙ্গুর চাষ হবে, কখনো ভাবিনি। বাগানে এসে মনে হচ্ছে বিদেশের কোনো ফল বাগানে ঘুরছি। এটি এখন পর্যটনের মতো আকর্ষণ তৈরি করেছে।

পঞ্চগড় সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আসাদুন্নবী বলেন, পঞ্চগড়ের আবহাওয়া ও মাটির গুণাগুণ বিদেশি ফল চাষের জন্য বেশ উপযোগী। আধুনিক পদ্ধতিতে চাষ করলে এখানে বাণিজ্যিকভাবে আঙ্গুর উৎপাদনের যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের নিয়মিত পরামর্শ ও কারিগরি সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। পরিকল্পিতভাবে চাষ ও বাজারজাতকরণ ব্যবস্থা গড়ে উঠলে ভবিষ্যতে আঙ্গুর পঞ্চগড়ের অন্যতম অর্থকরী ফসলে পরিণত হতে পারে।

আরু পড়ুন :

পঞ্চগড়ে আন্তর্জাতিক যোগ ব্যায়াম দিবস উপলক্ষে ইয়োগা রানআপ অনুষ্ঠিত

কৃষি সংশ্লিষ্টদের মতে, সঠিক পরিচর্যা, প্রশিক্ষণ ও সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা পেলে পঞ্চগড় একদিন দেশের অন্যতম আঙ্গুর উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিতি পেতে পারে। এতে শুধু কৃষকদের আয়ই বাড়বে না, জেলার অর্থনীতিতেও যোগ হবে নতুন সম্ভাবনার অধ্যায়।

বদরুদ্দোজা/ হাফিজ/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪