যুক্তরাষ্ট্রে ১ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগের অঙ্গীকার করার পর ঘুষ ও জালিয়াতি মামলায় মার্কিন আদালতে বিরাট স্বস্তি ভারতীয় শিল্পপতি গৌতম আদানির। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ তার বিরুদ্ধে থাকা মামলাটি প্রত্যাহার করে নেয়। মামলা প্রত্যাহারের বিনিময়ে আদানিকে বিরাট বিনিয়োগ করতে হবে আমেরিকায়। অঙ্কের হিসেবে সেই বিনিয়োগের পরিমাণ ৯৬ হাজার ৩১৪ কোটি টাকা। যুক্তরাষ্ট্রে আদানির আইনজীবী রবার্ট গিউফ্রা রয়টার্সকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
রয়টার্সকে তিনি বলেছেন, আদানি নিজেই গত মাসে ট্রাম্প প্রশাসনকে এই বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছিলেন; কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা তখন বলেছিলেন, মার্কিন আইন অনুযায়ী কোন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে মামলা চলমান থাকলে সেই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান বিনিয়োগ করতে পারবেন না।
গিউফ্রা আরো জানান, “যেহেতু মামলা তুলে নেওয়ায় হয়েছে তাই এখন বিনিয়োগে আর কোনো বাধা নেই ”,।
২০২৪ সালের ২০ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি আদালতে গৌতম আদানি, তার ভাতিজা সাগর আদানি ও তাদের সাত সহযোগীর বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন হয়। অভিযোগে বলা হয়, ভারতের একটি মেগা সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের কাজ বাগিয়ে নিতে দেশটির কয়েকজন কর্মকর্তাকে মোট ২৬ কোটি ৫০ লাখ ডলার ঘুষ প্রদান করেছিলেন গৌতম আদানি। প্রকল্পের ঠিকাদারির কাজ নিজের প্রতিষ্ঠান আদানি গ্রিন এনার্জিকে পাইয়ে দেওয়ার জন্যই এ ঘুষ প্রদান করেছিলেন তিনি।
এ ক্ষেত্রে আদানি গ্রিন এনার্জি নিজেদের প্রতিষ্ঠানের দুর্নীতিবিরোধী ও ঘুষবিরোধী প্রচেষ্টার বিষয়ে মিথ্যা, বিভ্রান্তিকর তথ্য-উপাত্ত দিয়েছিল।
যে প্রকল্পের জন্য ঘুষ দিয়েছিলেন, সেটি থেকে পরবর্তী ২০ বছরে কমপক্ষে ২ শ’ কোটিরও বেশি ইউরো মুনাফা আসার কথা। অভিযোগ গঠনের কয়েক ঘণ্টার মধ্যে ৬২ বছর বয়সী গৌতম আদানির নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেছিল নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের একটি আদালত।
এছাড়া আদানির মালিকানাধীন একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ইরানের সঙ্গে নিষেধাজ্ঞা ভেঙে বাণিজ্য করার অভিযোগও ছিল।
ভারতীয় ধনকুবের গৌতম আদানি এশিয়ার অন্যতম শীর্ষ ধনী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। ফোর্বসের তথ্য অনুসারে, আদানির মোট সম্পদের পরিমাণ ৮ হাজার ২০০ কোটি ডলার।
আল রাজীব/ আয়না