কয়েক মাসের রাজনৈতিক উত্তেজনা শেষে সেনেগালের প্রধানমন্ত্রী ওসমান সোনকোকে বরখাস্ত করে সরকার ভেঙে দিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট বাসিরু দিওমায়ে ফায়ে। গতকাল (২২মে) শুক্রবার এক আকস্মিক অধ্যাদেশ জারি করে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এ ঘোষণা দেওয়া হয়।
সম্প্রতি সোনকো পশ্চিমা বিশ্বের তীব্র সমালোচনা করে বলেন, পশ্চিমা দেশগুলো বাকি বিশ্বের ওপর সমকামিতা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছে। সমকামিতার অপরাধে শাস্তি আরও কঠোর করতে সেনেগালে সম্প্রতি নতুন একটি আইন পাস করা হয়। সোনকোর এ মন্তব্যের কয়েক ঘণ্টার মাথায় তাঁকে বরখাস্ত করা হয়।
বরখাস্ত হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে সোনকো লেখেন, আলহামদুলিল্লাহ। আজ রাতে আমি কুয়ের গরগুইয়ে শান্তিতে ঘুমাব। ডাকারে কুয়ের গরগুই সোনকোর নিজের এলাকা। একসময় সোনকো ছিলেন ফায়ের রাজনৈতিক গুরু। কিন্তু সাম্প্রতিক মাসগুলোয় তাঁদের সম্পর্ক তিক্ততায় রূপ নিয়েছে।
সেনেগালের তরুণদের মধ্যে সোনকো ব্যাপক জনপ্রিয়। বিশেষ করে তাঁর প্যান-আফ্রিকাপন্থী অবস্থান এবং সাবেক ঔপনিবেশিক শাসক ফ্রান্সের বিরুদ্ধে কঠোর মনোভাব তরুণদের আকৃষ্ট করে। তবে জনপ্রিয়তার দিক থেকে সোনকো এগিয়ে থাকলেও প্রেসিডেন্ট হিসেবে সব ক্ষমতা ফায়ের হাতেই।
সোনকো বলেন, আইনটি পাস হওয়ার পর তিনি বিদেশ থেকে, বিশেষ করে ফ্রান্সের কাছ থেকে তীব্র সমালোচনা শুনেছেন। পশ্চিমাদের উদ্দেশে তিনি বলেন, তারা যদি এই পথ (সমকামিতা) বেছে নিয়ে থাকে, তবে সেটা তাদের সমস্যা। এ বিষয়ে তাদের কাছ থেকে আমাদের কোনো শিক্ষা নেওয়ার প্রয়োজন নেই।
এএফপির সাংবাদিকেরা জানান, মধ্যরাতের পর সোনকো তাঁর বাড়িতে পৌঁছান। এ সময় সেখানে তাঁর শত শত সমর্থক জড়ো হন।
প্রেসিডেন্ট ফায়ে মূলত ওসমান সোনকোর সমর্থনের ওপর ভর করেই ক্ষমতায় এসেছিলেন। গত প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে সোনকোরই প্রেসিডেন্ট হওয়ার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা ছিল। কিন্তু একটি মানহানির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হওয়ায় তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারেননি। প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীর মধ্যকার এ বিরোধ কয়েক মাস ধরেই প্রকাশ্যে আসছিল। এর ফলে তাঁদের সরকার অনিশ্চিত হয়ে পড়ে।
ফায়ে টিভিতে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, যত দিন তাঁর ওপর আমার আস্থা থাকবে, তত দিন তিনি প্রধানমন্ত্রী পদে থাকবেন। যেদিন সেই আস্থা থাকবে না, সেদিন নতুন প্রধানমন্ত্রী আসবেন।
সূর্যয় / আয়না নিউজ