| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

কান ধরে ওঠবস করে মায়ের লাশ পেলেন ছেলে, মারধরের অভিযোগে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

  • আপডেট টাইম: 15-06-2026 ইং
  • 142 বার পঠিত
কান ধরে ওঠবস করে মায়ের লাশ পেলেন ছেলে, মারধরের অভিযোগে চিকিৎসকদের কর্মবিরতি

রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের সাথে দুর্ব্যবহারের অভিযোগ তুলে এক নারীর মৃতদেহ আটকে তার ছেলেকে কান ধরে ওঠবস করানোর ঘটনা আলোচনার ঝড় তুলেছে। ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। শনিবার (১৩ জুন) দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার জের ধরে রবিবার (১৪ জুন) সকাল ১১টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কার্যক্রমও বন্ধ রাখেন ইন্টার্ন  চিকিৎসকেরা।

হাসপাতাল ও স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, নগরীর জুম্মাপাড়া এলাকার নূর নাহার বেগমকে শনিবার (১৩ জুন) ভোরে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। ভর্তি হওয়ার কিছু সময় পরই তাঁর মৃত্যু হয়। এরপর চিকিৎসকদের অবহেলায় মৃত্যু হয়েছে অভিযোগ তুলে ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁর ছেলে রিফাত হোসেন। একপর্যায়ে দায়িত্বরত চিকিৎসকদের সঙ্গে স্বজনদের বাকবিতণ্ডা ও হাতাহাতির ঘটনা ঘটে।

ওই ঘটনায় ইন্টার্ন চিকিৎসক নাইম বকশী ও ইনডোর মেডিকেল অফিসার ডা. রাকিব হাসান মারধরের শিকার হন। এর প্রতিবাদে চিকিৎসকেরা কর্মবিরতি পালন করেন এবং অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে এনে ক্ষমা চাওয়ানোর দাবি জানান চিকিৎসকরা।

গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পরও সময়মতো চিকিৎসা না পাওয়ায় নূর নাহার বেগমের মৃত্যু হয়েছে। মায়ের মৃত্যুতে ক্ষুব্ধ হয়ে রিফাত চিকিৎসকদের সঙ্গে তর্কে জড়ালেও পরিস্থিতি পরে নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায় বলে দাবি জানান নিহতের পরিবার ।

মৃত্যুর পর মরদেহ দীর্ঘ সময় তাদের দেখতে দেওয়া হয়নি। এমনকি অ্যাম্বুলেন্সে তোলার পরও কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থী বাধা দিয়ে মরদেহ নামিয়ে হাসপাতালের মর্গে নিয়ে যান বলে জানান স্বজনেরা।পরে মরদেহ ফেরতের দাবিতে হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে রংপুর-দিনাজপুর মহাসড়ক অবরোধ করেন স্বজনরা।

এদিকে দুপুরে হাসপাতালের পরিচালকের কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন ইন্টার্ন চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীরা। তারা চিকিৎসককে মারধরের ঘটনায় অভিযুক্ত রিফাত হোসেনকে প্রকাশ্যে ক্ষমা চাইতে বলেন। একপর্যায়ে কার্যালয়ের ভেতরে তাকে কান ধরে ওঠবস করানো হয়। এরপর তাঁর মায়ের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন স্বজনরা

কান ধরে ওঠবস করতে বাধ্য করা হয়েছে সেই রিফাত হোসেন বলেছেন, যা হবার হয়ে গেছে। আমার আর কোনো অভিযোগ নেই। তবে আমি শুধু বলতে চাই যে আমার মতো কেউ যেন আর মা না হারায়।

তবে মরদেহ আটকে রাখার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ আসিফ। তিনি বলেন, চিকিৎসকদের ওপর হামলার বিচার দাবিতে আমরা আন্দোলন করেছি, কিন্তু কোনো মরদেহ আটকে রাখা হয়নি।

সিসিটিভি ফুটেজে চিকিৎসকদের মারধরের ঘটনা দেখা গেছে। এটিকে তিনি অনাকাঙ্ক্ষিত ও অমানবিক বলে উল্লেখ করেন হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আশিকুর রহমান। মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তোলার সময় অতিরিক্ত ভিড় ছিল। নিরাপত্তার কারণে সেটি সাময়িকভাবে মরচুয়ারিতে রাখা হয়েছিল। পরে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয় বলেও জানান তিনি ।

তিনি আরও জানান, চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আইনগত ব্যবস্থা নেবে এবং এ বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করা হবে।

এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি বলে জানান রংপুর কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এ কে এম নাজমুল কাদের।

আল রাজীব/ আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪