পঞ্চগড় প্রতিনিধি : পঞ্চগড়ে বেসরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান আদর্শ ক্লিনিকে মাত্র তিন দিনের ব্যবধানে এক প্রসূতি মা ও দুই নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় চাঞ্চল্য ও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। পরপর এমন মৃত্যুর ঘটনায় ক্লিনিকটির চিকিৎসাসেবার মান, নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও তদারকি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
ঘটনার পর বুধবার (১০ জুন) রাত ১১টার দিকে পঞ্চগড়ের সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান ক্লিনিকটি পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি ক্লিনিকের অপারেশন থিয়েটার (ওটি) ও লেবার রুম সিলগালা করেন এবং তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত সব ধরনের অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ রাখার নির্দেশ দেন।
জানা গেছে, গত ৭ জুন রাতে আদর্শ ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির সময় মনিরুল ইসলামের স্ত্রী মিতু আক্তার–এর নবজাতকের মৃত্যু হয়। এর দুই দিন পর, ১০ জুন সদর উপজেলার অমরখানা ইউনিয়নের নূরনবীর স্ত্রী পাপড়ি আক্তার–এর নরমাল ডেলিভারির সময় প্রথমে নবজাতকের মৃত্যু ঘটে এবং পরে তিনিও মারা যান।
পরপর দুইটি ঘটনায় নিহতদের স্বজনরা চিকিৎসায় অবহেলা, দায়িত্বহীনতা ও অনিয়মের অভিযোগ তুলেছেন। স্থানীয়দের মধ্যেও এ ঘটনায় ব্যাপক ক্ষোভ ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এদিকে স্বাস্থ্য বিভাগের সূত্রে জানা গেছে, আদর্শ ক্লিনিকের হালনাগাদ লাইসেন্স নেই। দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে নানা অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন পাওয়ার পর পরবর্তী আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত ক্লিনিকটির সব অপারেশন কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
বদরুদ্দোজা/ হাফিজ/ আয়না নিউজ