ভোলা প্রতিনিধি : ভোলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে কাঙ্ক্ষিত ইলিশ না পাওয়ায় চরম সংকটে পড়েছেন স্থানীয় জেলে ও আড়ৎদাররা। দীর্ঘদিন ধরে মাছ না পাওয়ায় ধারদেনা, ঋণের কিস্তি ও দাদনের চাপে অনেক জেলে পরিবারে নেমে এসেছে চরম অভাব-অনটন।
জেলেরা জানান, সমিতি ও মহাজনের কাছ থেকে ধার করে জাল-নৌকা নিয়ে নদীতে নামলেও খালি হাতে ফিরতে হচ্ছে তাদের। ফলে আয় বন্ধ হয়ে অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে বিকল্প পেশা হিসেবে নির্মাণ শ্রমিকসহ বিভিন্ন কাজে চলে যাচ্ছেন।
ভয়েস ওভারে বলা হয়, মা ইলিশ রক্ষায় নিষেধাজ্ঞা শেষ হলেও নদীতে ইলিশের উপস্থিতি আশানুরূপ নয়। এতে মহাজনেরা নতুন করে দাদন দিতেও অনীহা প্রকাশ করছেন। পুরোনো ঋণ পরিশোধের চাপ দিন দিন বাড়ছে, কিন্তু আয় না থাকায় জেলেরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।
একজন স্থানীয় জেলে বলেন, “ধারদেনা করে নদীতে নামলেও মাছ না পাওয়ায় সংসার চালানো খুবই কষ্ট হয়ে গেছে।”
আড়ৎদারদের অভিযোগ, মাছের সংকটের কারণে ব্যবসা বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়েছে। তারা বলছেন, ইলিশ না থাকায় বাজারে চাহিদা ও সরবরাহ দুটোই ব্যাহত হচ্ছে, ফলে তারা বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
ভোলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার ২৮৩ জন। তাদের বড় একটি অংশই বর্তমানে আয়বিহীন অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। পাশাপাশি পুঁজি হারিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন অনেক মহাজনও।
ভোলা জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন জানান, আগামী জুলাই-আগস্ট মাসে নদীতে পানি বৃদ্ধি পেলে ইলিশের উপস্থিতি ও আহরণ বাড়তে পারে বলে আশা করা হচ্ছে।
জেলে ও ব্যবসায়ীরা সরকারি সহায়তা ও প্রণোদনা বাড়ানোর দাবি জানিয়েছেন। তাদের প্রত্যাশা, নদীতে ইলিশ ফিরে এলে আবারও স্বাভাবিক হবে জীবিকা ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা।
সিরাজ/ হাফিজ/ আয়না নিউজ