ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলের টারনেট উপকূলের কাছে নর্দার্ন মলুক্কা সাগরে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে এবং আশপাশের দ্বীপগুলোতে সুনামি সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (০২ এপ্রিল) আলজাজিরার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় অন্তত একজনের মৃত্যু হয়েছে এবং ভবন থেকে লাফিয়ে পড়ে আরও একজন আহত হয়েছেন। ভূমিকম্পের তীব্রতায় বেশ কিছু ঘরবাড়ি ধসে পড়েছে এবং দমকলকর্মীরা উদ্ধার কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের বর্ণনায় উঠে এসেছে আতঙ্কের চিত্র। টারনেটের ৪২ বছর বয়সী বাসিন্দা বুদি নুরগিয়ান্তো জানান, তিনি ঘরের ভেতরে থাকা অবস্থায় হঠাৎ দেয়াল কাঁপতে শুরু করে এবং কম্পন এক মিনিটেরও বেশি সময় ধরে অনুভূত হয়। তিনি বলেন, “আমি বাইরে বেরিয়ে দেখি মানুষ রাস্তায় ছুটে এসেছে, সবাই আতঙ্কিত ছিল।
একই এলাকার আরেক বাসিন্দা সাইফুল জানান, প্রথমে কম্পন হালকা থাকলেও ধীরে ধীরে তা তীব্র হয়ে ওঠে। অন্যদিকে মানাদো শহরের এক চালক জানান, ভূমিকম্পের সময় তিনি গাড়ি থামিয়ে নিরাপদ স্থানে অবস্থান নেন, যাতে গাছ বা বৈদ্যুতিক খুঁটি গাড়ির ওপর না পড়ে।
ইউএসজিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল প্রায় ৩৫ কিলোমিটার। প্রাথমিকভাবে এর মাত্রা ৭ দশমিক ৮ নির্ধারণ করা হলেও পরে তা সংশোধন করে ৭ দশমিক ৪ করা হয়। ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল নর্থ মালুকু প্রদেশের কাছে টারনেট শহর থেকে প্রায় ১২০ কিলোমিটার দূরে।
স্থানীয় প্রশাসন টারনেট ও তিদোরসহ আশপাশের এলাকায় জনগণকে সতর্ক থাকতে এবং প্রয়োজনে দ্রুত সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে। ইতোমধ্যে কিছু স্থানে ভবনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন সুনামি সতর্কতা ব্যবস্থার তথ্যানুযায়ী, ভূমিকম্পের কেন্দ্র থেকে প্রায় ১,০০০ কিলোমিটার এলাকার মধ্যে ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন ও মালয়েশিয়ার উপকূলে সুনামির ঝুঁকি রয়েছে।
প্যাসিফিক সুনামি ওয়ার্নিং সেন্টার জানিয়েছে, কিছু উপকূলে ০.৩ থেকে ১ মিটার পর্যন্ত উচ্চতার ঢেউ আছড়ে পড়তে পারে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানিয়েছে, জাপানে সর্বোচ্চ ০.২ মিটার উচ্চতার ঢেউ আঘাত হানতে পারে, তবে এতে বড় ধরনের ক্ষতির আশঙ্কা নেই।
উল্লেখ্য, ইন্দোনেশিয়া প্রশান্ত মহাসাগরের ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ায় দেশটিতে প্রায়ই ভূমিকম্প ও আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত ঘটে।