দুয়ারে কড়া নাড়ছে ২০২৬ বিশ্বকাপ। ফুটবল বা ক্রিকেটের মেগা আসর মানেই বিশ্বজুড়ে সমর্থকদের তুমুল উম্মাদনা। প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে বাড়ির ছাদ, বারান্দা কিংবা জানালায় প্রিয় দেশের জাতীয় পতাকা ওড়ানো খুবই পরিচিত দৃশ্য। তবে নিয়ম না মেনে পতাকা ওড়ালে জরিমানা ৪ লাখ টাকা।
ব্রিটিশ আইন অনুযায়ী, পতাকাটি যদি বাড়ির ছাদে লাগানো থাকে, তবে যেকোনো আকারের পতাকাই ওড়ানো যাবে। এতে জরিমানার কোনো ঝুঁকি নেই। তবে শর্ত একটাই, পতাকাটি যেন নিরাপদভাবে এবং ভালো অবস্থায় টানানো থাকে, যাতে পথচারী বা প্রতিবেশীদের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি সৃষ্টি না করে।
বিশেষ করে ইংল্যান্ডে যারা বসবাস করছেন, তাদের জন্য আইনসংগতভাবে পতাকা ওড়ানোর ক্ষেত্রে রয়েছে বেশ কিছু কড়া নিয়ম। তবে সাধারণ কিছু নিয়ম জানলেই এই বিশাল অঙ্কের জরিমানা থেকে বেঁচে থাকা সম্ভব।
আইন অনুযায়ী, কোনো নির্দিষ্ট পতাকাদণ্ডে ওড়ানো পতাকার দৈর্ঘ্য দুই মিটারের বেশি হতে পারবে না। নিয়ম লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে স্থানীয় কাউন্সিল পতাকা অপসারণ বা আকার কমানোর নির্দেশ দিতে পারে।
আসল ঝামেলাটা এখানেই শেষ নয়, নির্দেশ অমান্য করে পতাকাটি ঝুলিয়ে রাখলে, যতদিন না সেটি সরানো হচ্ছে, ততদিন পর্যন্ত প্রতিদিনের জন্য গুনতে হবে আলাদা জরিমানা।
কাউন্সিলের নির্দেশ অমান্য করলে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৫০০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা করা হতে পারে। বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ প্রায় ৪ লাখ টাকার সমান। শুধু তাই নয়, নির্দেশনা অনুসরণ না করে পতাকা ঝুলিয়ে রাখলে প্রতিদিন অতিরিক্ত ২৫০ পাউন্ড পর্যন্ত জরিমানা যোগ হতে পারে। এই প্রক্রিয়াটি আদালত পর্যন্ত পৌঁছাতে বেশ কিছুটা সময় লাগে। আর এর যেকোনো ধাপে যদি পতাকাটি নামিয়ে ফেলা হয় বা নিয়মের মধ্যে এনে ছোট কোনো পতাকা লাগানো হয়, তবে কোনো ঝামেলাই পোহাতে হবে না।
সাধারণত প্রতিবেশীদের অভিযোগ পাওয়ার পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ একটি আনুষ্ঠানিক এনফোর্সমেন্ট নোটিশ পাঠায়। সেখানে অবৈধ পতাকা সরিয়ে ফেলা বা নির্ধারিত আকারে নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়।
বিশ্বকাপের উন্মাদনায় প্রিয় দলকে সমর্থন জানাতে পতাকা ওড়ানোর আগে তাই স্থানীয় আইন ও বিধিনিষেধ সম্পর্কে সচেতন থাকা জরুরি। সামান্য অসতর্কতা থেকে বড় ধরনের আর্থিক জরিমানা হতে পারে। যদি সেই নির্দেশ মেনে নেন, তবে কোনো জরিমানা ছাড়াই বিষয়টি সেখানেই মিটে যাবে।
সূর্যয় / আয়না নিউজ