পঞ্চগড় প্রতিনিধি: পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি দক্ষিণ প্রধানপাড়া সীমান্তে বিএসএফ ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থানরত ওই ১০ জনকে জোরপূর্বক শূন্যরেখার দিকে নিয়ে এসে বাংলাদেশ সীমান্তে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করে। এসময় প্রায় ৬০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে শূন্যরেখার ওপারে ভারতের অভ্যন্তরে অবস্থান করছেন তারা। তবে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে থেকে তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধা দেন। এ সময় সীমান্ত এলাকায় উভয় বাহিনীর সদস্যদের মধ্যে উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
রোববার (৭ জুন) দুপুর দিকে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) আবারও তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) তা প্রতিহত করে।
বর্তমানে সীমান্তে বিজিবি ও বিএসএফ উভয় পক্ষই অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে উভয় বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, নারী, পুরুষ ও শিশুসহ ১০ জন সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন। দীর্ঘ সময় ধরে রোদ, বৃষ্টি ও প্রতিকূল আবহাওয়ার মধ্যে অবস্থান করায় তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। শুক্রবার ভোর থেকে তারা সীমান্তসংলগ্ন একটি কৃষিজমিতে অবস্থান করছেন।
এ ঘটনায় কোম্পানি ও ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে একাধিক পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমাধান হয়নি। সর্বশেষ শনিবার দুপুরে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে প্রায় ২০ মিনিটের একটি পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি।
৯৩ বিএসএফের কমান্ডারের সঙ্গে বৈঠকে তিনি ওই ব্যক্তিদের ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন। তবে বিএসএফ তা প্রত্যাখ্যান করেছে। আন্তর্জাতিক আইন ও নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের মাধ্যমে ফেরত পাঠাতে হবে, পুশইন কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয় বলে জানান নীলফামারী ব্যাটালিয়নের (৫৬ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম।
আব্দুর রহিম/ আল রাজীব/ আয়না নিউজ