| বঙ্গাব্দ
Space For Advertisement
ad728

গাজা নিয়ে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আসলে কী?

  • আপডেট টাইম: 30-05-2026 ইং
  • 22410 বার পঠিত
গাজা নিয়ে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা আসলে কী?

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে গাজায় যুদ্ধ চলমান থাকলেও ইসরায়েলের সামরিক তৎপরতা কমার কোনো সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। গাজায় যুদ্ধবিরতির পরও নতুন এলাকা নিয়ন্ত্রণে নেওয়া, সামরিক ঘাঁটি স্থাপন এবং গাজার আরও বড় অংশের ওপর দখলের প্রচেষ্টা গাজা নিয়ে ইসরায়েলের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার প্রশ্ন তুলে।

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনজামিন নেতানিয়াহুর দাবি, দেশটির বাহিনী বর্তমানে গাজার প্রায় ৬০ শতাংশ এলাকা নিয়ন্ত্রণ করছে। একই সঙ্গে নেতানিয়াহু এ নিয়ন্ত্রণ আরও বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছে তার এই বক্তব্যে নিয়ে, ধারনা করা হচ্ছে হামাসকে দুর্বল করার ঘোষিত সামরিক অভিযানের আড়ালে গাজায় স্থায়ী নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার কৌশল নেওয়া।

এদিকে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় শান্তি পরিকল্পনা ও ঘোষিত যুদ্ধবিরতি নির্দিষ্ট সময় পর ইসরায়েলি বাহিনীর ধাপে ধাপে গাজা থেকে সরে যাওয়ার কথা  থাকলেও নিয়ন্ত্রণ সম্প্রসারণ হচ্ছে। পাশাপাশি সেখানে নতুন সামরিক স্থাপনা ও ঘাঁটি নির্মাণ করা হয়েছে। ফলে অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, অস্থায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতির ভিত্তি গড়ে তোলা হচ্ছে। এ থেকে স্পষ্ট বোঝা যাচ্ছে যুদ্ধবিরতির পরও গাজার নতুন কিছু এলাকায় নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করেছে ইসরায়েল।

নিরাপত্তা কৌশল ও দখলের প্রচেষ্টা বাস্তবায়ন করতে ইসরায়েল বরাবরই দাবি করে আসছে, হামাসের হামলা প্রতিরোধ এবং সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই গাজায় তাদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ প্রয়োজন।

দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের কারণে গাজার অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে সংকুচিত হচ্ছে বাসযোগ্য এলাকা। বিষেশ করে হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ সরবরাহব্যবস্থা ও আবাসিক ভবনসহ পানি  ধ্বংসের মুখে পড়েছে। একই সঙ্গে অনেক এলাকায় সাধারণ মানুষের প্রবেশও প্রায় বন্ধ হওয়ার পথে। এলাকার পরিমাণ আরও কমে গেলে গাজার লাখো বাসিন্দার জীবনযাত্রা ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক বিচারব্যবস্থা বলছে, বলপ্রয়োগের মাধ্যমে অন্যের ভূখণ্ড দখল আন্তর্জাতিক আইনের পরিপন্থী। ফলে গাজায় ইসরায়েলের বর্তমান পদক্ষেপকে ঘিরে আইনি বিতর্কও ক্রমেই বাড়ছে।

যুদ্ধের শুরুতে গাজা ইস্যু আন্তর্জাতিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে থাকলেও বর্তমানে বিশ্বের মনোযোগ অন্যান্য আঞ্চলিক ও বৈশ্বিক সংকটের দিকে সরে গিয়ে কমছে আন্তর্জাতিক চাপ ।ফলে অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে গাজার ভবিষ্যৎ।

এ নিয়ে গাজার বাসিন্দাদের স্বেচ্ছায় অভিবাসনের বিষয়ে ইসরায়েলের কয়েকজন মন্ত্রীর সাম্প্রতিক বক্তব্যে উঠে আসে নতুন বিতর্ক। সমালোচকদের মতে, যুদ্ধ, অবরোধ এবং মানবিক সংকটের মধ্যে মানুষকে এলাকা ছাড়তে বাধ্য করা হলে সেটিকে স্বেচ্ছায় স্থানত্যাগ বলা যায় না।

তবে সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ ইঙ্গিত দিচ্ছে, যুদ্ধ শেষ হলেও গাজাকে ঘিরে রাজনৈতিক ও ভূরাজনৈতিক সংকট দ্রুত শেষ হওয়ার কোনো ইঙ্গিত নেই।

সূর্যয় / আয়না নিউজ

ad728

নিউজটি শেয়ার করুন

ad728
© সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ নতুন ঠিকানা - সংবাদ রাতদিন সাতদিন | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় ক্রিয়েটিভ জোন ২৪