মিরপুরে ওয়ানডে সিরিজ জিতলেও চট্টগ্রামে টি-টোয়েন্টি সিরিজের শুরুটা ভালো হয়নি বাংলাদেশের। প্রথম ম্যাচে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে হেরে সিরিজে পিছিয়ে পড়ে স্বাগতিকরা। তবে আজ সিরিজ বাঁচানোর ম্যাচেও ঘুরে দাঁড়াতে পারেননি তাওহিদ হৃদয়রা। ১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া নেমে বাংলাদেশের ইনিংস থামে ১৮৯ রানে। ৭ রানের জয়ের পাশাপাশি ১ ম্যাচ হাতে রেখে সিরিজও নিজেদের করে নিয়েছে অজিরা।
চট্টগ্রামের বীরশ্রেষ্ঠ মতিউর রহমান স্টেডিয়ামে শুক্রবার (১৯ জুন) শেষ ৩ বলে ১৮ রানের সমীকরণ দাঁড়িয়েছিলো বাংলাদেশের সামনে। চোটে পড়া লিটন দাসের অনুপস্থিতিতে ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক তাওহিদ হৃদয় প্রথম বলেই ছক্কা মেরে আশা দেখান। কিন্তু পরের বলে চার মেরে ইনিংসের শেষ বলে তিনি ক্যাচ দেন বাউন্ডারি লাইনের কাছে।
এদিকে অস্ট্রেলিয়া ঢাকায় ওয়ানডে সিরিজ হারলেও টি–টুয়েন্টি সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচই জিতে সিরিজ জয় নিশ্চিত করেছে। আগামী পরশু সিরিজের শেষ ম্যাচে মুখোমুখি হবে দুই দল।
ব্যাটিংয়ের মতো বল হাতেও আজ বাংলাদেশ শুরুটা ভালো করেছিল। শরীফুল ইসলামের বদলে নাহিদ রানা আর মেহেদী হাসানের জায়গায় সুযোগ পান নাসুম আহমেদ। দুজনেই ইনিংসের ৪ ওভার পেরোনোর আগে উইকেটও পেয়েছেন।
১১ বলে ৬ রান করা জশ ইংলিসকে এলবিডব্লু করেন নাসুম, ফর্মে থাকা কুপার কনোলি ৪ বলে ১ রান করে আউট হন নাহিদের বলে ক্যাচ দিয়ে। পাওয়ার–প্লের মধ্যেই আরও একটা উইকেটও পেয়ে যায় বাংলাদেশ। সাইফ হাসানের দুর্দান্ত এক ক্যাচে মোস্তাফিজুর রহমানের বলে আউট হন মিচেল মার্শ। ৬ ওভার শেষে ৩ উইকেটে অস্ট্রেলিয়ার রান ছিলো ৪৩।
বড় রান তাড়া করতে নেমে তানজিদ ঝোড়ো শুরু করে ভিতটা তৈরি করে দিয়েছিলেন ঠিকঠাক। কিন্তু ইনিংস বেশি লম্বা করতে পারেননি। ৪ চার ও ১ ছক্কায় ১৫ বলে ৩০ রান করে আউট হয়ে যান রেনশর বলে তাঁর হাতেই ক্যাচ তুলে দিয়ে।
শামীম হোসেন ৮ বলে ৭ রান করে আউট হয়ে যাওয়ার পর হৃদয়ের সঙ্গী হন আগের ম্যাচেই অভিষেক হওয়া আব্দুল গাফফার। কিন্তু তারা রানের গতির সঙ্গে ঠিকঠাক পাল্লা দিতে পারেননি।
চতুর্থ উইকেট জুটিতে অস্ট্রেলিয়াকে টেনে তোলেন ম্যাট রেনশ ও টিম ডেভিড। শুরুতে দেখেশুনে খেললেও পরে দ্রুত রান তুলতে থাকেন দুজন। ৫০ বলে ৯৭ রানের এই জুটি ভাঙেন সাকলাইন। ডেভিড আউট হন ২৬ বলে ৪৫ রান করে।
এরপর নিখিল চৌধুরীকে (৮) নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান নাসুম। অন্য প্রান্তে অবশ্য ফিফটি তুলে নেন রেনশ। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে ৫২ বলে ৮৯ রানে অপরাজিত থাকেন তিনি। বাংলাদেশের হয়ে নাসুমই সর্বাধিক ২ উইকেট নেন। সাকলাইন ১ উইকেট নিতে খরচ করেন ৫৩ রান।
১৯৭ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ শুরু থেকেই চাপের মুখে পড়ে। নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে বড় লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি টাইগাররা। শেষ পর্যন্ত লড়াই করেও ৭ রানে পরাজিত হয় বাংলাদেশ, আর তাতেই দুই ম্যাচের সিরিজ নিশ্চিত করে নেয় অস্ট্রেলিয়া।
সূর্যয় / আয়না নিউজ