সাতক্ষীরা প্রতিনিধি: সীমান্তে ‘পুশইন’ বন্ধের দাবিতে সাতক্ষীরার ভোমরা স্থলবন্দর এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে ১১ দলীয় জোট। শুক্রবার (১২ জুন) বিকাল ৪টায় এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন ১১ দলীয় জোটের আহবায়ক ও সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল। সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় মজলিসের সূরা সদস্য ও সাতক্ষীরা জেলা জামায়াতে ইসলামী সেক্রেটারি মাো আজিজুল ইসলাম। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য ও সাতক্ষীরা ১ আসনের সংসদ সদস্য ইজ্জত উল্লাহ।
আরো উপস্থিত ছিলেন সাতক্ষীরা জেলার জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি প্রভাষক মোঃ ওমর ফারুক,সাতক্ষীরা জেলা কর্মপরিষদের সদস্য এড আজিজুল ইসলাম, ১১ দলীয় জোটের এনসিপির সাতক্ষীরা জেলা যুগ্ন আহবায়ক আহসান উল্লাহ, সাতক্ষীরা পৌর আমির জাহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা সদর উপজেলা জামায়াতে আমির মাও মোশাররফ হোসেন, সেক্রেটারী মাওঃ হাবিবুর রহমান, দেবহাটার জামায়াতের আমির ওলিউল্লাহ, ভোমরা ইউনিয়ন সেক্রটারী ইমদাদুল হকসহ ১১ দলীয় নেতৃবৃন্দ। অনুষ্ঠান শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন হাফেজ মাওঃ রবিউল ইসলাম।
প্রধান অতিথি বক্তব্যে বলেন ভারতে বসবাসরত নাগরিকদের নতুন আইন করে নাগরিক অধিকার হরণ করে অবৈধভাবে পুশ ইন করছে যা আইন আন্তর্জাতিক লঙ্ঘন। ভারত আমাদের সাথে বন্ধুসুলভ আচরণ করছে না। তারা আমাদেরকে ডাস্টবিন মনে পড়ছে। প্রতিবেশির মনে করে না। ১৮ কোটি জনগণকে ঐক্যবদ্ধ করে ভারতের এ অন্যায়কে প্রতিবাদ ও রুখে দেওয়া। মুসলমান হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান আমরা একসাথে সবাই বসবাস করি আমরা চাই সকলের সাথে থাকতে চাই কোন পরশক্তির কাছে আমার মাথা নত করব না।
১১দলীয় নেতৃত্ব বৃন্দসমাবেশে বলেন, সীমান্তে কথিত ‘পুশইন’ কার্যক্রম বন্ধ করতে হবে এবং সীমান্তে দায়িত্বপ্রাপ্ত বাহিনীকে আরও সতর্কতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। তারা দাবি করেন, কোনো অবৈধ নাগরিককে বাংলাদেশ গ্রহণ করবে না। তবে যথাযথ প্রক্রিয়ায় বাংলাদেশি নাগরিক হিসেবে বৈধতা প্রমাণিত হলে তাদের গ্রহণ করা হবে।
বক্তারা অভিযোগ করেন, সীমান্তে জোরপূর্বক মানুষকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার ও প্রচলিত আইন লঙ্ঘন করা হচ্ছে। তারা বলেন, বাংলাদেশের জনগণ স্বাধীনচেতা ও সাহসী জাতি; চাপ বা ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাদের দমিয়ে রাখা সম্ভব নয়।
এসময় কয়েকজন বক্তা ভারতীয় পণ্য বর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, দেশের স্বার্থ রক্ষায় দেশীয় পণ্যের ব্যবহার বাড়াতে হবে। একই সঙ্গে তারা সীমান্তে অবৈধ অনুপ্রবেশ বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানান।
আব্দুল মোমিন/ আল রাজীব/ আয়না নিউজ